ক বি কে ত কী প্র সা দ রা য়

   

কেতকীপ্রসাদ রায়

অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর হলেও স্কুল-কলেজ থেকেই তাঁর কবিতার সঙ্গে জীবন যাপন।নয়ের দশক শুরু থেকে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। কবি অসংখ্য কাব্য গ্রন্থের রচয়িতা হলেও, ২০০০ সালের কলকাতা বই মেলায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত "দ্রৌপদীর জন্যে কত স্পন্সর"বইটি কবিকে যথেষ্ঠ স্বীকৃতি দিয়েছে। কবি অসংখ্য পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন, যেমন - হৃষীবীণা, গান্ধর্ব রত্ন, রক্তকরবী সম্মান, কুসুমে ফেরা সাহিত্য সম্মান, কব্যপথিক সম্মান, আবৃত্তি শিল্পী সনস্থা কর্তৃক বিশেষ সম্মান, ত্রিপুরার 'কৃষ্টিবান্ধন' কর্তৃক বিশেষ সম্মান।কবি অসংখ্য পুরস্কারে সম্মানিত হলেও, ২০১৯ সালে তদানীন্তন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী কিশোরী নাথ ত্রিপাঠী মহাশয় কর্তৃক পেয়েছেন কবি সম্মাননা।২০১৯ সালে ভারত-বাংলাদেশ-প্রবাসী বাংলার সাহিত্য সংগঠন 'তিন বাংলা' কর্তৃক পেয়েছেন বিশেষ সম্মাননা।কবি অসংখ্য সাহিত্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, ২০১০ সালে তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠিত ব্যতিক্রমী সংগঠন 'শিল্পীমন' সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সঙ্গীত জগতে ব্যতিক্রমী কাজ করে চলেছে।বর্তমানে কবি কেতকীপ্রসাদ রায় 'লিটল ম্যাগাজিন ফোরাম'-এর সাধারণ সম্পাদক।

দুটি কবিতায়

কবি কেতকীপ্রসাদ রায়











ভোরের ঝরা ফুল


চৈত্রের শেষ রাতে ফুল ফোটে মাজারের উপর বনসাই গাছে

সকাল হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে সে ফুল

সব পাপ মুছে যাবে এ দৃশ্য অবগাহনে

সারারাত জেগে বসে থাকি পাপীর মতো

মোক্ষ লাভের এটাই সহজ পথ

ওখানে সোনালী-রূপালী চাদরে মোড়া চাঁদের আলো।


আমাদের সব দ্বন্দ্ব নিজেদের চৌহদ্দির মধ্যে

তাও আবার তা অন্তরাত্মার ভিতর

দুর্বলতা বা প্রতিবন্ধকতা গুলো কি সব জয় করা যায় ?

সকাল হওয়ার আগেই মাজারের উপর ফুল ঝরে পড়ে।


আমিতো...আমিই, আমার একটি মাত্র স্বত্তা

মুখে নেই কোনো অহঙ্কারী দ্বিচারিতার ছাপ।

সন্ত্রাসী ভালোবাসা কখনও দেয়নি আগুন নিভিয়ে

তবু সন্তানের মুখ বেঁধে রাখে নিজের ঘরে

আর সারারাত উবু হয়ে বসে থাকি মাজারের পাশে-

ভোরের ঝরা ফুল দেখে যাবো, বসে থাকি পথের ধারে।


যাত্রাপথ 


জলের স্বেচ্ছাচারিতার মতো আলোর কোনো মানচিত্র নেই,

নেই কোনো সীমারেখা,

নেই কোনো প্রতিবন্ধকতা,

আদমশুমারিও নেই;

বাতাসের মতো বিনা বাধায় যত্রতত্র বিচরণ করে।

আলোর কি কোনো মানচিত্র থাকতে আছে ?

অথবা নিদৃষ্ট সীমারেখা !

আলোর নিদৃষ্ট কোনো বাসস্থান নেই,

গতিপথেই জেগে থাকে মিলনের গভীরতা ।


দৃষ্টান্ত স্থাপনের আলোর কোনো বাসরঘর নেই,

যে কেউ ভালোবাসলে, অবাধ প্রবেশ তার;

অথচ দেখ, সে গড়ছে, আবার সব ফেলে চলে যায়,

কাল্পনিক সীমারেখায় বাঁধে না নিজস্ব পথ।


জলের স্বেচ্ছাচারিতার মতো আলোরও কোনো মানচিত্র নেই,

থাকার কথাও নয়;

অথচ সমগ্র যাত্রাপথ আলোকিত করে সময়ের হাত ধরে চলেছে অনন্তকাল ।




Comments

Popular posts from this blog

কি ছু ব লা ক থা

সূ চি প ত্র

ক বি আ ব দু স শু কু র খা ন