ক বি র থী ন ক র
রথীন কর
এ সময়ের বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।পরবর্তীকালে আই. এ.এস আধিকারিক হিসেবে বহু বিচিত্র পথের পথিক তিনি।ভারত সরকার প্রদত্ত 'কলম্বো প্লান' বৃত্তি নিয়ে বার্মিংকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ।রাজ্য ও দেশকে প্রধিনিধিত্ব করেছেন তিনি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।'শ্রেষ্ঠ কবিতা' সহ এ পর্যন্ত তাঁর পনেরোটি কাব্যগ্রন্থ ও দু'টি প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।দেশে বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় অভিষিক্ত হয়েছেন তিনি।যুক্ত আছেন বিভিন্ন সাহিত্য সংস্কৃতি মূলক সংগঠন ও সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গে।
সম্পাদক মশাই জানতে চেয়েছেন, এই যে পঁচিশ ত্রিশ বছর মিশছেন শ্যামলকান্তির সঙ্গে কেমন ধারণা হয়েছে সেই কবি ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে।কবিদের নিয়ে তিনি কতটা ভাবনা চিন্তা করেন।তাঁর কবিতা নিয়ে আলোচনা করার আগে প্রথম প্রশ্নটির উত্তর দিতে হবে। বেশ কঠিন পরীক্ষা।বরং কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করি যাতে পাওয়া যেতে পারে তাঁর কবিচরিত্রের কিছু ঝলক।রাক্ষস সাপ ব্যাঙ ডাইনোসর এঁড়িগোপাল গেঁড়িগোপাল জগদীশ শ্যামাপদ সুবল অন্ধকার রক্তপাত এসব নিয়ে আশিরপদনখ গ্রামীণ অথচ গ্রাম্যতাহীন এক কবি ক্লিষ্ট নগরজীবনের পথে হেঁটে চলেছেন গত শতকের সাতের দশক থেকে।এখনো মরচে পড়েনি তাঁর কবিতার তরোয়ালে।অফুরন্ত প্রাণপ্রাচুর্য এবংকবিতার জন্য বিশুদ্ধ আবেগ।তরুণ কবিদের কবিতা পকেটে নিয়ে ঘোরেন।বরিষ্ঠ কবিদের পড়ে শোনান।বেশ লিখছে না।প্রবীণ কবিদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল।ঈর্ষণীয় সংগঠন ক্ষমতা। 'সৌহার্দ্য সত্তর' এর কথা স্মরণীয়।হলদিয়া বিশ্ব বাংলা কবিতা উৎসবে দেখেছি তাঁর সমদর্শী দৃষ্টি।ঘুরে ঘুরে সকলের খোঁজ নিচ্ছেন ঠিকমতো খাওয়া হয়েছে কি না,থাকার জায়গা ঠিক আছে কিনা।কোন অসুবিধার কথা কেউ জানালেই রণহুংকার ।এরকম হল কেন?তাঁর কবিতার পাশাপাশি তিনি যে লোকপ্রিয় হবেন এতে আর আশ্চর্যের কি আছে! টাঙ্গাইল কবিতা উৎসবে গিয়ে দেখেছি অন্য জায়গার কবিরা দল বেঁধে বসে আছেন তাঁদের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার জন্য।কালকে ময়মনসিং তো পরশু ঢাকা পরের দিন মুন্সিগঞ্জ।প্রতিফলিত আলোকে আমরাও আলোকিত।প্রত্যক্ষ করেছিলাম তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা।
আর একবার ঢাকায় এক কাণ্ড হয়েছিল।কবিপত্নীর এক বান্ধবী নেমন্তন্ন করেছিলেন সান্ধ্য চা চক্রে।এক আলোকিত সৌধচত্বরে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল আমাদের।গাড়িতে নিয়ে যাবে।প্রতীক্ষার এক ঘন্টা অপেক্ষায় কেটে গেল।হোটেলে এসে শ্যামলকান্তির সে কি রুদ্রমূর্তি।যেন সুপ্ত ভিসুভিয়াস জেগে উঠেছে।কবিতার খাতা থেকে সহস্র 'রাক্ষস'যেন ধেয়ে এল কবিদের সম্মান রক্ষায়।ওঁরা যুক্তহস্তে নতমস্তক।'কবিরা কি ফ্যালনা? কী দরকার ছিল এই রসিকতার?'কবিদের সম্মান রক্ষায় সতত সজাগ তিনি।একবার টাঙ্গাইল কবিতা উৎসবে সকলের ভিসা তিনি করিয়ে দেবেনই যাতে নতুন যারা বাংলাদেশে যাচ্ছেন তাদের কোন অসুবিধা না হয়।বাংলা আকাদেমি সভাঘরে এক অনুষ্ঠান চলছিল।ঝড়ের বেগে তিনি ঢুকলেন। দুই হাতে উপচে পড়া পাসপোর্ট।বিলোচ্ছেন তিনি।দেখা গেল দু'জনের পাসপোর্ট বেপাত্তা।সবাইকে বলছেন তোমার/আপনার চেয়ারের তলায় পড়ে গেছে। খোঁজ খোঁজ।পরে দেখা গেল দু'টি পাসপোর্ট উপদূতাবাসেই রয়ে গেছে।এই হচ্ছেন শ্যামলকান্তি...
বাড়িতে চাল বাড়ন্ত।
ছেলের হুঁশ নেই সেদিকে।তার পুস্তকপ্রীতিতে বিরক্ত হয়ে মা বলে ওঠেন--
সারাদিন গজগজ করবে পেটে জ্ঞান বিদ্যা
বই খেতে খেতে তুমি
অপার ও অফুরন্ত,ছুটে দৌড়ে দৌড়ে বহুদূর যাবে।
মার এই ব্যঙ্গমিশ্রিত আশীর্বাণী সত্য হয়ে উঠেছে সেই ছেলের জীবনে।তিনি বহু দূর গেছেন তাঁর স্বর্ণকলমের রথে চড়ে এবং আরো অনেক অনেক দূর যাবেন।তাঁর
নিজের ঘোষণায়,'পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত আমি গ্রামের ছেলে।'সেজন্যই বোধ হয় অনুভব করেছেন নাগরিক 'তাপ উত্তাপে গ্রামজীবনের একটু শীতলতা লাগানো দরকার'।তাঁর চোখেমুখে বাংলারও আলো/কাঁটাবনে মুক্তির আলো হাওয়া।' তিনি স্বপ্নচারী।তাঁর সম্বল হাওয়া,তাঁর সহযাত্রী মানবপ্রকৃতি।১৯৫১ সালের ৩ নভেম্বর অবিভক্ত মেদিনীপুরের চৈতন্যপুর গ্রামে জন্ম তাঁর।প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'কাগজকুচি'কে সঙ্গে নিয়ে তাঁর পথচলা শুরু।রহস্যঘন তাঁর কবিতা।স্বয়ম্ভূ কাব্যভাষা।অন্তর্লীন সম্মোহন।একান্ত নিজস্ব স্বরায়ন।গভীর আত্মবিশাসী উচ্চারণ.....
খাঁচা ভাঙো বজ্রপাত।গাঢ় নীল মুক্তিপথ।আরও আরও আরও।আরও'
ছিঁড়ে খুঁড়ে তছনছ।দুপাশে সরিয়ে দাও প্রহেলিকা, মেঘ।
এখনও দিনের শেষে গান হয়,ভাতের অপূর্ব গান।ব্যঞ্জনের
আরও আরও গান।
দুয়ারে ধানের ছায়া।ধান গম।
উড়ে চলো ও শ্যামল
আরও আরও
পঞ্চাশ বছর।
(পঞ্চাশ বছর)
কবিতার শরীর তিনি সাজিয়ে তোলেন স্বকীয় শব্দবন্ধে।আবুড়া-খাবুড়া,ছ্যাতলানো, কেলেকুলো,বগবগে প্রভৃতি।প্রমিত বাংলার সঙ্গে সহাবস্থান এই সব অন্ত্যজ প্রাকৃত শব্দের।রহস্যঘন তাঁর উচ্চারণ।ততোধিক রহস্যময় তাঁর কবিতার আঙ্গিক।লৌকিক থেকে অলৌকিকে স্বচ্ছন্দ বিহার।রিলকে অধিচেতনাকে স্পর্শ করতে চেয়েছিলেন একাকী কোনও বসন্ত সন্ধ্যায়...
a horse drawing near..
white coming up from the village alone,
তাঁর ঘোড়া 'followed the call of space.' এক দূরত্বময় অনুভূতি।অবিচ্ছিন্ন আবহমানের প্রতীক।জীবনানন্দের ঘোড়াগুলোও 'alone'। রাত্রিযাপন করে 'কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে'।শ্যামলকান্তির ঘোড়াগুলি শুধু বহমান নয়,সে বলদর্পী।'রাজরক্তে আশরীর মোড়া।'
অশ্ব বেগবান।রাত্রি যায় সরে।
উদ্দীপক আলো।কাকপক্ষী ওড়ে।
রক্তমেঘ ডানা।পূর্ণ জলাশয়
ঘোর সার্থকতা।আর কীসের ভয়?
সামান্যই পথ।অনিঃশেষ যাওয়া।
(সামান্য পথ))
'আমাদের ঘোড়াজন্ম ' কবিতাতেও তিনি ঘোড়াদের জীবনধারার সামনে নতজানু।।এই গতিময়তার আরও নিদর্শন মেলে 'ব্যাঙ' কবিতাটিতে।ভাঙা ভাঙচা ফুটোফাটা গার্হস্থ্য থেকে কি মুক্তি চাইছে অশ্বত্থের ছত্রছায়াতলে নীলাভ শ্যাওলা মাখা দু'টি ব্যাঙ?
ঝিকুরগাছির ঐ দু'টি ব্যাঙ মেসোপটেমিয়া যাবে
সমাজ আনতে
এই যাওয়া শাস্ত্রসম্মত....
কবির নিজের ভাষায় এ হল 'আদিম সভ্যতা ও সমকালের ধূসর সংযোগ।'পশ্চিমে যাওয়া আমাদের কাছে অনেকদিন শাস্ত্রসম্মত।কিন্তু কোন সমাজ আনতে
যাচ্ছে তারা?ধনতান্ত্রিক সমাজ অথবা সমাজতান্ত্রিকতা! কিংবা জন স্টুয়ার্ট মিল যাকে বলেছেন,greatest good of the greatest number!যেখানে শিক্ষা,স্বাস্থ্য মননের উন্নতি হবে।থাকবে পর্যাপ্ত খাদ্য ও পুষ্টির সংস্থান।কবির ইচ্ছে,'উহারা থাকুক সুখে,/উহাদের ধনে পুত্রে লক্ষ্মীলাভ হোক'।
নাগরিক সপ্রতিভতায় অঙ্কিত হয়েছে সামাজিক অবক্ষয় ও সমাজচেতনার কাব্যচিত্র বিচিত্র প্রতীকী তাৎপর্যে।
শ্যামলকান্তির কাব্যভুবনে 'রাক্ষস' এক বহুবর্ণিল প্রতীকী চরিত্র। রাক্ষস নামে আস্ত একটি কাব্যগ্রন্থই উপহার দিয়েছেন তিনি আমাদের।ঝড়জলের রাতে বাবা যখন বাড়ি ফেরেন না,যখন ছেলেমেয়েদের অনেক অনেক ভয় আঁকড়ে ধরে্ তখন রাক্ষ্সের অন্য রূপ।ব্যঞ্জনাসমৃদ্ধ কী ভয়ংকর ইঙ্গিতধর্মী কবিতা 'বাবার বন্ধু'---
'ভরা পুকুরের জলে বিদ্যুতের ফুলকি।
দেখি দরজায় দাঁড়িয়ে রাক্ষস হাসছেন।
রাক্ষস আমাদের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন না,
কিন্তুপাশের ঘর থেকে আমরা আমোদ-আহ্লাদের শব্দ শুনতে পাই।
দেখতে পাই ঘরের ভেতর ঘোরাফেরা করছে
আবছা নীল রঙের আলো।'
এই রাক্ষস অবশ্য আগেই দেবত্বে উত্তীর্ণ হয়েছে।এই দেবতাটি কিন্তু সুযোগ পেলেই সোনার বাংলার নাদুস নুদুস মেয়েদের কচমচিয়ে খেয়ে ফেলে।'মায়ের চোখে টলমল করে কান্না,ঠোঁটে রক্ত/বুকে নখের আঁচড়।'মা এখানে শোষিত মানুষের প্রতীক'।স্বভাবকালো গাঁয়ের ছেলে বাঘ কুড়োতে যায়। বাঘ কিন্ত অধরা থেকে যায়।আবার সেই বাঘ যখন খাবার সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে তখন তার কী অবস্থা হয়!সারাদিন ঝাঁপাঝাঁপি করে।কিন্তু কেউ ঘুরেও দেখে না।শেষে--
অঞ্চল প্রধান বদরাগী মানুষ।
পেটে লাথ মারলেও এক ছটাক বিদ্যে বেরোবে না।
তিনি আমাকে ঘাসপাতার পাহাড় দেখিয়ে বললেনঃ
যান খেয়ে নিন,
বেশি চেঁচালে জিভ ছিঁঁড়ে ফেলব কিন্তু।
(তথাস্তু)
ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় অঞ্চল প্রধান প্রতিপত্তিসম্পন্ন ব্যক্তি।তাঁর কথার অন্যথা হলে তিনি শাস্তি দিতেই পারেন।শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের'বাঘ' চিরকালীন ভালোবাসার প্রতীক।সে আঁখির আঠায় আটকে থাকে।শ্যামলকান্তির বাঘ রিংমাস্টার অঞ্চল প্রধানের দাপটে ঘাস খেতেও প্রস্তুত।সে এখানে বঞ্চিত
প্রান্তিকমানুষের প্রতীক।আবার মধ্যরাতে বউয়ের তাড়নায় যখন বাঘ খুঁজতে বেরোতে হয় কবিকে সে বাঘ কিন্তু শৌর্য বীর্যের প্রতীক।
আশিরপদনখ গ্রামের মানুষ নাগরিক খিন্নতা থেকে নিজেকে স্বতন্ত্র পরিচয়ে ব্যাপ্ত করেছেন।কিন্তু লেখনীতে নেই ছিটেফোঁটা গ্রাম্যতা।কেমন আছি আমরা নাগরিক পরিবেশে?
আমাদের চোখ নেই চক্ষু নেই--ঘুলঘুলি,কোটর
মাথা নেই মুণ্ড নেই--ফাঁপা শূন্য ঢলঢলে মগজ।
ধড়ে কোনো কাঁধ নেই--স্কন্ধে মরা ভূত বসে আছে
আমাদের মাঠ নেই---
(আমরা)
সর্বব্যাপী নেতি।নিখিল নাস্তি।এর থেকে পরিত্রাণ নেই।
We are the hollow men
We are the stuffed men
Leaning together
Headpiece filled with straw. Alas!
(The Hollow Men--T.S.Eliot)
সংকেত আশ্রয়ী মানুষী প্রেমের সাহসী বিস্তারও শ্যামলকান্তির কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
পাশাপাশি শুয়ে থেকে বুঝতেপারিনি
এখন বাসনা মানে পায়ে-পায়ে হেটঁ চোর
আসে আর চলে যায়,মুক্তির লিখন রাখে ঠোঁটে...
মাঝখানে লিপ্সু চামেলি ফোটে দুটি-একটি।
(আমি)
কত সহজ উচ্চারণে বুনে চলেন তিনি প্রেমের নকসিকাঁথা--
তুমি আমার রাত্রি,ভোর
অন্ধকার ও অগ্নিচোর
তুমি আমার মুক্তাফল
পদ্মপত্রে হৃৎকমল
(তুমি)
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যাকে বিপুল শহর তার বিপুলতর হাঁ
নিয়ে যেন গিলে খেতে আসতো।তাই তিনি গাছে গাছে কবিতা টাঙাতে যেতেন।কবি শ্যামলকান্তিও এই কৃত্রিম মেগাটন সভ্যতা থেকে পরিত্রাণ খোঁজেন প্রকৃতির মাঝে।অনন্য চিত্রকল্পে ধ্বনিত হয়েছে দিশাহীনতায় উদভ্রান্ত এক কিশোরের হৃদয়ম্থিত ক্রন্দনধ্বনি।
দু'পাশে আকাশছোঁয়া বাড়ি
বাড়ির কোনোখানে বই ও খাতা নেই
ও বাবা বাড়ি চলো এখনি বাড়ি চলো
আমারও গাছ আছে গাছের পাতা চাই
(বাড়ি)
কাঁদতে গিয়ে ফুসফুস ঠেলে বেরিয়ে আসছে রক্তের ধারা।
হাঁটু গেড়ে বসেছে
নখ বিঁধিয়ে দিয়েছে দিয়েছে দাবনায়
টুটি টিপে ধরেছে
বুকে দমাদম ঘুষি মারছে
কাঁদতে গিয়ে আমার ফুসফুস ঠেলে
বেরিয়ে আসছে রক্তের ধারা।
( হিংসা)
এই ভয়াল পরিস্থিতেও মধ্যরাতে 'পাঁপড়ের মতো ঠুনকো একটা /আবুড়া-খাবুড়া চাঁদ ওঠে'।শ্যামল প্রকৃতি তার আলপনা বুনে যায় কবির কলমে।
জানালার বাইরে আজ ছবির বন্যা বইছে।রং রং।আরও রং
ফুল বলছে আমি ধন্য অলি বলছে আমিও।চারপাশে গাছপালার
শ্যামল বনে উদ্যানে কাননে কান্তারে শ্যামল বাংলার হাওয়া।
---------------------
---------------------
অনবদ্য আকাশ ঝুলছে আর অবিস্মরণীয় সূর্যাস্ত।
এই সর্বাঙ্গীণ প্রকৃতি চেতনায় নিথর জলের মাঝখানটিতে ক্ষ্যাপা জঙ্গুলে জ্যোৎস্নায় এক অকুতোভয় রাজরাজেশ্বর নামেন জল খেতে।নদীর বাঁকের মতো কবির কাব্যভাষাও বাঁক নিচ্ছে প্রকৃতিপ্রভাবের,দমকা হাওয়ায়
বৃষ্টির ছাটের মতো।নাগরিক দ্বেষ,রণ-রক্ত, একাকীত্ব, অন্তর্লীন বিষাদ, সারাদিনের গুমরে ওঠা কান্না দূরীভুত প্রকৃতির স্নিগ্ধ প্রলেপে।সংসারের তাপ উত্তাপে গ্রামজীবনের শীতলতায় অবগাহন করছেন কবি।
প্রতীক প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত শ্যামলকান্তি।প্রতীকের ভেতর আরোএকটি প্রতীক।প্রচ্ছন্ন ব্যঞ্জনা।একেবারে নিজস্ব ঘরানা।'হাতফুল ভাতফুল পদ্মফুল তারাফুল'।
কী করে লেখো তুমি এমন পরিপূর্ণ কবিতা ?শ্যামলকান্তি? চিরজীবিতেষু শ্যামলকান্তি।






খুব ভাল আলোচনা।
ReplyDelete