ক বি-অ নু বা দ ক নী লা ঞ্জ ন শা ণ্ডি ল্য
নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্য
জন্ম:-৩ মার্চ,১৯৬৫ ।জামালপুর, বিহার,ভারতবর্ষ।পেশা - চাকুরি।কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধক, গল্পকার ও অনুবাদক।প্রকাশিত গ্রন্থ –বাংলা কবিতা – ক্যালাইডোস্কোপ, কমা সেমিকোলন ও দাঁড়ি, নিভৃতে নিজের সঙ্গে, কখনো রোদ কখনো ছায়া, আকাশ ছোঁওয়ার দুঃখসুখ।ইংরেজি কবিতা – Dream & Fire.ছড়া–ইলাটিন বিলাটিন।পুরস্কার–বনানী, ইস্ক্রা, নিত্যানন্দ পুরস্কার।
ইংল্যান্ডের কবি উলফ্রেড এডওয়ার্ড সল্টার ওয়েন-র কবিতার অনুবাদে কবি-অনুবাদক নীলাঞ্জন শান্ডিল্য
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কবিতা - উইলফ্রেড ওয়েন
উইলফ্রেড এডওয়ার্ড সল্টার ওয়েন-এর জন্ম ১৮ই মার্চ, ১৮৯৩ ইংল্যান্ডের শ্রপশায়ারে। তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সেনা অফিসার ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম সেরা কবি। যুদ্ধকে তিনি দেখেছেন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। তাই তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে যুদ্ধের নির্মম, দুঃখময় পরিবেশ। তাঁকে কবিতা লেখায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তাঁর বন্ধু, কবি ও সেনা অফিসার, সিগ্ফ্রিড সাসূন। সাসূনের সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর তিনি যে কবিতাটি লেখেন তা এখানে অনুদিত প্রথমটি। যুদ্ধের তিক্ত হতাশা তাঁর কবিতায় কিন্তু কখনো খুব চড়া হয়ে ফোটেনি, বরং তা ব্যক্ত হয়েছে দৃঢ় সংযত স্বরে। তাঁর অধিকাংশ কবিতায় তিনি আয়াম্বিক পেন্টামিটার অনুসারী এক ঢিলে-ঢালা ছন্দ ব্যবহার করেছেন; বাঁধা অন্তমিলের বদলে প্রায়ই এসেছে অ্যাসোনেন্স বা স্বরসাদৃশ্য। ঐ অনুষঙ্গে অনুবাদে এসেছে তাই অসম পংক্তির ঢিলেঢালা অক্ষরবৃত্ত; আর কখনো ঢিলে অন্তমিল, কখনো স্বরসাদৃশ্য আবার কখনো একেবারেই অন্তমিলহীনতা।যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ১৯১৮ সালের ৪ঠা নভেম্বর তিনি ফ্রান্সের রণাঙ্গনে মারা যান। সাত দিন পরে ঠিক যুদ্ধবিরতির দিনেই তাঁর মার কাছে মৃত্যুসংবাদের টেলিগ্রামটি এসে পৌঁছয়; তখন সেখানকার গির্জায় বাজানো হচ্ছে আনন্দের ঘন্টা। সমাধিক্ষেত্রের সমাধিফলকে মা কবিরই একটি পংক্তি উৎকীর্ণ করে দিয়েছিলেন। মাত্র পঁচিশ বছর বাঁচলেও ওয়েন ইংরেজি ভাষার এক গুরুত্বপূর্ণ কবি। ওয়েন বা সাসূনের মতো সে সময় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সার্থক কবিতা লিখেছেন আরও অনেকে। পরে কখনো তাঁদের সঙ্গেও পরিচয় ঘটানোর ইচ্ছে থাকল।
অভিশপ্ত তারুণ্যের বন্দনাগীতি
বিদায়ের ঘন্টা আর বাজিও না গির্জায় গির্জায় –
গরু-ছাগলের মত ওরা চলে গেছে বন্দুকের বিকট হুংকারে।
দ্রুত ছুটে আসা গুলির কর্কশ শব্দ – সেই ছিল বিদায় বন্দনা।
ঘন্টার স্বননে আর স্তোত্র উচ্চারণে সে প্রস্থানে কোরো না বিদ্রুপ।
আর কোনো সমবেত প্রার্থনার ঐকতান নয় –
কামানের ছুটন্ত গোলার মতিভ্রষ্ট হাহাকার ছাড়া।
তাদের যাত্রার পথে জ্বেলো না মোমের বাতি আর
হাতে নয়, ছেলেদের চোখে আজ পূত বিদায়ের আলো ঝলমল
নারীর পাণ্ডুর মুখচ্ছবি – সেই আজ তাদের কাফন।
ফুলে ফুলে ঢেকো না শরীর –
শান্ত মনের মায়া সাবধানে পেতে দাও শবের উপর
প্রতিটি দিনের শেষ – সেই হোক শেষকৃত্য তবে,
ধীরপদে সন্ধ্যা এসে টেনে দিক শেষ যবনিকা।
রচনা – অক্টোবর, ১৯১৭
নিরর্থক
রোদে নিয়ে এসো ওকে –
সেই রোদ, একদিন যার আলতো ছোঁওয়ায়,
নবীন ধানের ক্ষেতে ফিসফাস ডাকের হাওয়ায়
ঘুম ভেঙে যেত যার দেশে;
এখানেও সেই রোদ ডেকে দিত তাকে –
প্রতিদিন এই পরদেশে।
বুড়ো সুয্যিটা ভালো লোক
বোধহয় সেই একমাত্র জানে, কোন্ কায়দায়
আর এক বার তাকে ডেকে তোলা যাবে ঘুম থেকে।
দেখনি কি, কী করে রোদ্দুর
সুপ্ত বীজেদের ডেকে তোলে;
কী করে জাগিয়ে ছিল একদিন প্রাণহীন সুপ্ত পৃথিবীকে।
কী এত কঠিন তবে বল
একে ডেকে তোলা –
এখনও শরীর জুড়ে ওম যার, এখনও স্নায়ুর নড়াচড়া।
বৃথা তবে রোদে-জলে ডাঁটো করে তোলা
বৃথা এই পৃথিবীকে
রোদ্দুরের ঘুম থেকে তোলা।
রচনা – মে, ১৯১৮


অপূর্ব অনুবাদ।অনুবাদের ছন্দে অর্থবহ হয়ে উঠেছে লাইনগুলি।সার্থক লেখনী।চমৎকৃত হলাম।এ যে পরম পাওয়া।অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা🙏
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ।
Delete