ক বি হ রি ৎ ব ন্দ্যো পা ধ্যা য়


হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

জন্ম:- ২ জানুয়ারি,১৯৬৭, পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার ধনিয়াখালি গ্রামে। লেখালিখির শুরু খুব ছোটবেলা থেকেই। পেশায় গৃহশিক্ষক হলেও সাহিত্যই চব্বিশ ঘণ্টার ধ্যানজ্ঞান। কবিতার জন্যেই তাঁর বেঁচে থাকা। উদ্দেশ্যহীন পথচলা তাঁর কাছে নেশার মতো। এই পৃথিবীতে রেলস্টেশনই তাঁর বসবাসের একমাত্র জায়গা বলে তিনি মনে করেন। একান্ত ইচ্ছা মধ্যরাতে একটি অসমাপ্ত দীর্ঘকবিতা নিয়ে অরণ্য এবং নির্জন দ্বীপে চিরকালের জন্যে হারিয়ে যাওয়া। জল মাটি হাওয়া গাছপালা নদীর সঙ্গ তাঁর কাছে চির-আকাঙ্ক্ষিত। 

সম্পাদিত পত্রিকা : ছায়াবৃত্ত, কাটুম কুটুম।

দুটি কবিতায়

কবি হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়












নদীর ভেতরে গাছের উচ্চগান


নদীর ভেতরে গাছের গান শুনলে

মনে হয় 

গ্রাম ঘুমিয়ে আছে 


আমাদের কিছু গাছ ছিল 

আর ছিল কিছু মাটি

একসঙ্গে থাকতেই পারত

কে যেন দু’হাত বাড়িয়ে সবকিছু মুছে দিল


অথচ একজনও কেউ কারও সাতেপাঁচে ছিল না 

নিজের ক্ষমতায় খেয়েদেয়ে মাটিতেই ঘুমাতো


গাছ উঠলে কারই বা ঘুম আসে

ভোররাতে যখন পাশ ফিরে শোওয়ার সময়

ঠিক তখনই নাক থেকে অক্সিজেনের নলটা

কে যেন খুলে নিল


আজ এই ভোরবেলা 

নদী

গাছ

মাটি

সবাই জেগে

শুধু চোখ বলছে 

আমরা নেতিয়ে পড়ছি


জলের সমীকরণ 


তক্তাপোশ, মেঝে

চৌকাঠ 

উঠোন পার হয়ে 

যখন পুকুরে এসে দাঁড়িয়েছি

পুকুরের জল ততক্ষণে 

বাড়তে বাড়তে নদীতে 

জলের দিকে তাকিয়ে

একবারের জন্যেও দাঁতে দাঁত চাপিনি


একেবারে এক ধাক্কায় নদীতে 

সে কি শুধু লম্বা জলের সমীকরণ! 

হাত পা গা মাথা ভিজিয়েও 

বুঝতে পারিনি 

বেলা বাড়লে জল বাড়ে 

অথচ চলতে ফিরতে নিজেকে বাড়িয়েছি কতটুকু? 


নদীতেও তো সে থেমে নেই 

আরও অনেক ভেতর দিকে ঢুকে গেছে সে

যেখানে দাঁড়ালে স্পষ্ট বোঝা যায় 

জল আসলে একটি পর্বতের উপাখ্যান 

জানলা খুললে তবেই একমাত্র 

এর গতিপ্রকৃতি বিষয়ে একটা ধারণা করা যায়। 


Comments

Popular posts from this blog

ক বি-প্রা ব ন্ধি ক র ফি ক উ ল ই স লা ম

কি ছু ব লা ক থা

ক বি অ মি ত গো লু ই